চুলের যত্ন
চুল পড়া কমাতে ঘরোয়া যত্নের ১০টি কার্যকর টিপস

চিরুনিতে, বালিশে বা গোসলের পর মেঝেতে চুলের গোছা দেখে দুশ্চিন্তা হয় না এমন মানুষ কম। তবে প্রথমেই জেনে রাখুন — প্রতিদিন কিছু চুল পড়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। সাধারণভাবে দিনে প্রায় ৫০–১০০টি চুল পড়া চুলের স্বাভাবিক জীবনচক্রের অংশ, কারণ পুরোনো চুল ঝরে নতুন চুল গজায়। সমস্যা তখনই, যখন চুল পড়া হঠাৎ অনেক বেড়ে যায় বা চুল স্পষ্টভাবে পাতলা হতে থাকে।
কেন চুল পড়ে?
- ঋতু পরিবর্তন ও আবহাওয়া: ঢাকার আর্দ্রতা, ঘাম ও ধুলায় মাথার ত্বক ময়লা ও খুশকিপ্রবণ হয়
- পুষ্টির ঘাটতি: প্রোটিন, আয়রন ও কিছু ভিটামিনের অভাব
- মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাব
- অতিরিক্ত তাপ ও কেমিক্যাল: ঘন ঘন স্ট্রেইটনার, কালার বা ভুল পদ্ধতিতে ট্রিটমেন্ট
- টাইট হেয়ারস্টাইল: সবসময় টাইট পনিটেইল বা খোঁপা
- হরমোন ও স্বাস্থ্যগত কারণ: সন্তান জন্মের পর, থাইরয়েডসহ বিভিন্ন কারণ — এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি
চুল পড়া কমাতে ঘরোয়া ১০টি টিপস
১. সঠিকভাবে তেল ম্যাসাজ করুন সপ্তাহে ১–২ বার হালকা গরম নারকেল বা পছন্দের তেল দিয়ে আঙুলের ডগা দিয়ে আলতো করে মাথার ত্বক ম্যাসাজ করুন। এতে রক্তসঞ্চালন ভালো হয় ও আরাম লাগে। তবে তেল দিয়ে কয়েক ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন — সারাদিন তেল রাখলে ধুলা জমে খুশকি বাড়তে পারে।
২. মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখুন গরম ও ঘামের দিনে সপ্তাহে ২–৩ বার মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুন। পরিষ্কার মাথার ত্বক সুস্থ চুলের প্রথম শর্ত।
৩. কন্ডিশনার বাদ দেবেন না কন্ডিশনার চুলের আগা নরম রাখে এবং জট কমায়, ফলে আঁচড়ানোর সময় চুল কম ছেঁড়ে। শুধু মাঝ থেকে আগায় লাগান।
৪. ভেজা চুলে সাবধান ভেজা চুল সবচেয়ে দুর্বল থাকে। তোয়ালে দিয়ে জোরে ঘষবেন না, চওড়া দাঁতের চিরুনি দিয়ে আগা থেকে ধীরে ধীরে জট ছাড়ান।
৫. তাপ কমান স্ট্রেইটনার, কার্লার আর গরম ব্লো-ড্রায়ারের ব্যবহার কমান। ব্যবহার করতেই হলে হিট প্রোটেক্ট্যান্ট লাগিয়ে কম তাপে ব্যবহার করুন।
৬. চুল ঢিলে করে বাঁধুন টাইট পনিটেইল বা খোঁপা চুলের গোড়ায় টান দেয়। ঘুমানোর সময় চুল আলগা বেণি করে বা খোলা রাখুন।
৭. প্রোটিন ও আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খান ডিম, মাছ, ডাল, মুরগি, দুধ, শাকসবজি ও মৌসুমি ফল চুলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৮. পর্যাপ্ত পানি ও ঘুম শরীর পানিশূন্য থাকলে চুলও রুক্ষ হয়। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান ও ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম চুলের জন্যও জরুরি।
৯. নিয়মিত আগা ছাঁটুন প্রতি ২–৩ মাসে আগা ছাঁটলে আগা ফাটা উপরের দিকে ছড়ায় না এবং চুল ঘন দেখায়।
১০. মাসে একবার হেয়ার স্পা হেয়ার স্টিম, ডিপ কন্ডিশনিং ও তেল ম্যাসাজসহ হেয়ার স্পা চুলকে নরম, আর্দ্র ও কম ভঙ্গুর রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে রিবন্ডিং বা কালার করা চুলে এটি খুব উপকারী।
পার্লারে যে ট্রিটমেন্টগুলো সাহায্য করতে পারে
- হেয়ার স্পা ও অয়েল ম্যাসাজ: মাথার ত্বক পরিষ্কার ও চুলে আর্দ্রতা
- প্রোটিন/কেরাটিন ট্রিটমেন্ট: দুর্বল ও ভঙ্গুর চুলকে মজবুত ও মসৃণ করা
- স্পেশাল হেয়ার ফল ট্রিটমেন্ট: আমাদের কিছু প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত
মনে রাখবেন, এই ট্রিটমেন্টগুলো চুল ভাঙা ও ঝরে পড়া কমাতে এবং চুল সুস্থ দেখাতে সাহায্য করে, কিন্তু কোনো রোগজনিত চুল পড়ার চিকিৎসা নয়।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
- হঠাৎ করে অনেক বেশি চুল পড়তে শুরু করলে
- মাথার কোনো অংশে গোল টাক বা স্পষ্ট ফাঁকা জায়গা দেখা দিলে
- মাথার ত্বকে চুলকানি, লালচে ভাব, ব্যথা বা খোসা উঠলে
- চুল পড়ার সাথে ক্লান্তি, ওজনের পরিবর্তন বা অন্য শারীরিক সমস্যা থাকলে
এসব ক্ষেত্রে একজন ডার্মাটোলজিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ঘরে তৈরি সহজ হেয়ার মাস্ক
রান্নাঘরের কিছু উপকরণ দিয়েও সপ্তাহে একবার চুলের যত্ন নেওয়া যায়:
- টক দই ও মধু: ২ চামচ টক দইয়ের সাথে ১ চামচ মধু মিশিয়ে চুলে লাগান, ২০–৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। শুষ্ক চুলে আর্দ্রতা দেয়।
- ডিম ও অলিভ অয়েল: একটি ডিমের সাথে ১ চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে লাগান, ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন (গরম পানিতে ডিম জমে যায়)।
- অ্যালোভেরা জেল: মাথার ত্বকে লাগালে ঠান্ডা ও আরামদায়ক অনুভূতি দেয়।
নতুন কোনো উপকরণ ব্যবহারের আগে হাতের ছোট অংশে লাগিয়ে পরীক্ষা করে নিন, যাতে অ্যালার্জি না হয়। এসব মাস্ক চুল নরম ও ঝলমলে রাখতে সাহায্য করে, তবে কোনো রোগের চিকিৎসা নয়।
খুশকি ও চুল পড়া
খুশকি হলে মাথার ত্বকে চুলকানি হয় আর বারবার চুলকানোর ফলে চুলের গোড়া দুর্বল হতে পারে। মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখা, অতিরিক্ত তেল ফেলে না রাখা এবং প্রয়োজনে অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করা খুশকি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। খুশকি না কমলে বা মাথার ত্বকে লালচে দাগ দেখা দিলে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিন।
চুল পড়া নিয়ে কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা
- "বেশি তেল দিলে চুল পড়া বন্ধ হয়।" — তেল চুলকে পুষ্টি ও আর্দ্রতা দেয়, কিন্তু অতিরিক্ত তেল ধুলা জমিয়ে উল্টো সমস্যা করতে পারে।
- "চুল ছাঁটলে চুল দ্রুত বাড়ে।" — ছাঁটলে গোড়া থেকে বৃদ্ধির গতি বদলায় না, তবে আগা ফাটা দূর হওয়ায় চুল সুস্থ ও ঘন দেখায়।
- "প্রতিদিন শ্যাম্পু করলে চুল পড়ে।" — সঠিক, মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করলে সমস্যা নেই; বরং ময়লা মাথার ত্বক বেশি ক্ষতিকর।
সাথিস বিউটি লাউঞ্জে চুলের যত্ন
উত্তরা সেক্টর ৭-এর সাথিস বিউটি লাউঞ্জে হেয়ার স্পা, হট অয়েল ম্যাসাজ, ডিপ কন্ডিশনিং, প্রোটিন/কেরাটিন ট্রিটমেন্ট ও স্পেশাল হেয়ার ফল ট্রিটমেন্ট পাওয়া যায়। রিবন্ডিং করা চুলের যত্নে পড়ুন রিবন্ডিংয়ের পর চুলের যত্ন। হেয়ার ট্রিটমেন্টসহ প্যাকেজ দেখতে অফার সেকশন ঘুরে আসুন।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
প্রতিদিন কতগুলো চুল পড়া স্বাভাবিক?
সাধারণভাবে দিনে প্রায় ৫০–১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। লম্বা চুলে একই সংখ্যাও বেশি মনে হতে পারে।
প্রতিদিন তেল দেওয়া কি ভালো?
প্রতিদিন তেল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সপ্তাহে ১–২ বার তেল ম্যাসাজ করে কয়েক ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলাই যথেষ্ট।
হেয়ার স্পা কতদিন পরপর করা উচিত?
সাধারণত মাসে একবার। খুব শুষ্ক বা ক্ষতিগ্রস্ত চুলে বিউটিশিয়ানের পরামর্শে প্রথমে ২–৩ সপ্তাহ পরপর করা যেতে পারে।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের জন্য। ত্বক বা চুলের কোনো রোগ, অ্যালার্জি বা স্বাস্থ্যগত সমস্যায় অবশ্যই চিকিৎসক বা ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিন।



